পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বাজেটে ঘোষিত তিনটি বড় প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বারের বাজেটে ঘোষিত '
যুবসাথী', ভূমিহীন ক্ষেত মজুর এবং কৃষি সেচের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো যুবসাথী প্রকল্প, যা মাধ্যমিক পাস যুবক-যুবতীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে।এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী ১৫ মার্চ থেকে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প বসানো হবে।**
| মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী ১৫ মার্চ থেকে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প বসানো হবে |
মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাজেটে ঘোষিত এই স্কিমগুলো কার্যকর করতে সরকার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। যেহেতু অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় সার্ভে ও ভেরিফিকেশনে সময় বেশি লাগে, তাই এবার সরাসরি 'দুয়ারে সরকার'-এর আদলে অফলাইন ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন তৈরি করা হবে।
প্রধান তিনটি প্রকল্পের হাইলাইটস
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি ক্যাটাগরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে:
1. যুবসাথী (Yuvashree) স্কিম:
লক্ষ্য: বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা।
যোগ্যতা: মাধ্যমিক পাশ এবং বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
সুবিধা: যারা অন্য কোনো সরকারি স্কলারশিপ বা স্কিমের আওতায় নেই (যেমন- ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, শিক্ষাশ্রী বা স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ), তারা এই স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
* **আর্থিক সাহায্য:** প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ৫ বছরের জন্য। এরপর চাকরি না মিললে সেটি রিভিউ করা হবে।
* **কার্যকর:** আগে ঘোষণা অনুযায়ী এটি ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, এখন Banglar yuva sathi apply date এপ্রিল মাস থেকেই টাকা দেওয়া শুরু হবে।
2. ভূমিহীন ক্ষেত মজুর (Landless Farm Laborers):
লক্ষ্য: যারদের নিজস্ব কোনো জমি নেই কিন্তু তারা চাষাবাদের কাজ করেন।
সুবিধা: 'কৃষক বন্ধু' প্রকল্পের আওতায় এই ভূমিহীন চাষীদের বছরে দু'বার ২০০০ টাকা করে (বার্ষিক ৪০০০ টাকা) দেওয়া হবে। এটি খরিফ এবং রবি মৌসুমে পাওয়া যাবে।ভূমিহীন শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সেচ সুবিধা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার ২৯৪টি ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং আগামী পাঁচ বছর ধরে এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।একই সাথে, যারা এক কাঠা বা তার বেশি জমির মালিক, তারা ইতিমধ্যে বছরে চার হাজার টাকা করে পেয়ে আসছেন। এই দুই শ্রেণীর মধ্যে কোনো বৈষম্য না রেখে সরকার উভয় গোষ্ঠীকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীন কৃষকদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুই লাখ টাকা এবং ফসলের বীমা সুবিধাও প্রদান করা হচ্ছে।
3. মাইনর ইরিগেশন ও পাওয়ার চার্জ মকুফ:
লক্ষ্য: কৃষকদের সেচের খরচ কমানো।
সুবিধা: যারা সরকারি খাতে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ইরিগেশন বা শ্যালো টিউবয়েলের জন্য পাওয়ার চার্জ দেন, তাদের সেই খরচ সরকার মকুফ করবে। অর্থাৎ, এই পরিমাণ পানি তোলার জন্য তাদের আর টাকা দিতে হবে না। এই সুবিধা শুধুমাত্র সরকারি সংযোগধারী কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং যারা ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেচ কার্যক্রম চালান, তারা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন।
ক্যাম্পের সময়সূচি ও আবেদন প্রক্রিয়া
সরকার এই প্রকল্পগুলোর জন্য অনলাইনের বাইরে গিয়ে অফলাইন পদ্ধতিতে আবেদন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়।
তারিখ: ১৫ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ।
সময়: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে)।
স্থান: রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে (Assembly Wise)। প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে ক্যাম্প হবে।
উপস্থিত দপ্তর:
প্রতিটি ক্যাম্পে ৪টি দপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন—
1. যুবকল্যাণ দপ্তর (যুবসাথীর জন্য)
2. 2. কৃষি দপ্তর (ভূমিহীন চাষীর জন্য)
3. 3. মাইনর ইরিগেশন
4. 4. পাওয়ার ডিপার্টমেন্ট (সেচের বিদ্যুৎ ছাড়ের জন্য)
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আবেদনকারীদের ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে দরখাস্ত জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই তারা রিসিট পাবেন এবং সেই সঙ্গে ডিজিটাইজ করার কাজও চলবে। সরকারের কাছে আগের স্কলারশিপ, লক্ষ্মী ভান্ডার এবং কৃষক বন্ধুর তালিকা থাকায় ভেরিফিকেশনের কাজ তুলনামূলক দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
## সামনে আসছে উৎসবের মরসুম
এই সম্মেলনে আগামী দিনের উৎসবের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ১৯ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। তারপরই আসছে হোলি, ঈদ, পয়লা বৈশাখ, রামনবমী এবং অন্নপূর্ণা পুজো। সরকারের পক্ষ থেকে সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে উৎসবগুলো পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
