দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় এই নির্দেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে [প্রাথমিক] ও [উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষা] ব্যবস্থায় [গুণগত মান] নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট জানাল—[TET] হলো [ন্যূনতম যোগ্যতা]; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাশ না করলে চাকরি ছাড়তে হবে/বাধ্যতামূলক অবসর হতে পারে।
| নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে Tet পাশ না করলে চাকরি ছাড়তে হবে |
কী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (What the Court said)
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে যে [Right to Education Act (RTE Act), 2009]–এর Section 23 অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে [Teacher Eligibility Test (TET)]–কে “minimum qualification” হিসেবে মানতেই হবে।
বিশেষ করে প্রি-RTE নিয়োগপ্রাপ্ত) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে TET পাশ করেননি, তাঁদের চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থাকবে না—তাঁদের চাকরি ছাড়তে হবে / বিভাগীয় নিয়মে বাধ্যতামূলক অবসর (compulsory retirement) হতে পারে।
রায়ে আদালত যে বার্তা দিয়েছে—শিক্ষকতার ক্ষেত্রে “যোগ্যতা” শুধু কাগুজে নয়; শিক্ষার মান টিকিয়ে রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে যোগ্য শিক্ষক থাকা সাংবিধানিক লক্ষ্য (Article 21A–এর বৃহত্তর উদ্দেশ্য) পূরণের জন্য জরুরি।
কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত (Who are affected)
এই নির্দেশের প্রভাব মূলত পড়ছে— [RTE Act] কার্যকর হওয়ার আগে (pre-RTE era) নিয়োগপ্রাপ্ত in-service শিক্ষক, যাঁদের এখনও চাকরির ৫ বছরের বেশি সময় বাকি। তাঁদের ক্ষেত্রে আদালত বলেছে ২ বছরের মধ্যে TET পাশ করতে হবে, নইলে চাকরি বৈধতা বাতিল হবে /বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণের নির্দেশ বহাল রেখেছে আদালত (বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী)।
- যাঁদের চাকরিতে ৫ বছরের কম/সমান সময় বাকি—আদালত Article 142 প্রয়োগ করে বাস্তবসম্মত ছাড় দিয়েছে: তাঁরা সুপারঅ্যানুয়েশন পর্যন্ত TET ছাড়াই চলতে পারেন, তবে পদোন্নতি চাইলে TET লাগবে।
“পদত্যাগ না অবসর”—কী পরিণতি হতে পারে (Consequences)
রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী— যে শিক্ষকেরা ৫ বছরের বেশি সময় বাকি থাকা শিক্ষকরা ২ বছরের মধ্যে TET পাশ না করলে তাঁদের চাকরি ছাড়তে হতে পারে; অথবা সরকার/বিভাগ compulsory retirement নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
Terminal benefits (অবসরকালীন সুবিধা) পাওয়ার বিষয়টি যোগ্যতামূলক সার্ভিস রুলস–এর উপর নির্ভর করবে—অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী যত বছর সার্ভিস দরকার, এই শর্তাধীন সুবিধা প্রাপ্য হবে।
কেন এই রায়কে “ঐতিহাসিক” বলা হচ্ছে (Why this is a big deal)
শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক যোগ্যতা প্রসঙ্গে আপসযোগ্য নয়। TET–কে আদালত শুধু নিয়োগের শর্ত নয়, চাকরি টিকিয়ে রাখার শর্ত হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছে (বিশেষত যাঁদের সামনে দীর্ঘ সার্ভিস বাকি)।
আরও বড় মাত্রা হলো—একই মামলায় আদালত মাইনরিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে RTE প্রযোজ্য কি না—এই প্রশ্নটি larger bench -এ পাঠিয়েছে, অর্থাৎ বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও বড় সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় যেতে পারে।
[RTE Act, 2009] প্রাথমিক শিক্ষাকে “fundamental right”–এর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে। Section 23 অনুযায়ী কেন্দ্র নির্ধারিত “academic authority” (বাস্তবে NCTE) শিক্ষকতার ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করে।
আদালত বলছে: এই যোগ্যতা না থাকলে শিক্ষার মান ও শিশুর অধিকার (quality education) ক্ষতিগ্রস্ত হয়—তাই “সময় দিয়ে যোগ্যতা অর্জন” করলেও, শেষ পর্যন্ত মানতে হবে।
