সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান ইন্ডিয়া** – কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সুরক্ষায় সরকারের নতুন পদক্ষেপ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শিশু ও কিশোরদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে social media এবার সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাব। ভারত সরকার বর্তমানে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে।বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া এখন প্রতিটি বাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আসক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কি মানসিক উন্নয়নে সহযোগী হবে।
| প্রাইভেট মেম্বারস বিল প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রাখা এবং ব্যাবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব |
একটি প্রাইভেট মেম্বারস বিল প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রাখা এবং ব্যাবহার নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
📋 প্রস্তাবিত বিলের মূল বৈশিষ্ট্য
সংসদ সদস্য লাভু শ্রী কৃষ্ণ দেবরায়ালু একটি ১৫ পৃষ্ঠার বিল তৈরি করেছেন যার নাম "Social Media (Age Restrictions and Online Safety) Bill**"। এই প্রস্তাবিত আইনে প্রস্তাব রাখা হয়েছে যে ১৬ বছরের কম বয়সি কাউকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাবহার করবার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই বিলে মূল প্রস্তাবনাগুলি:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|বয়সসীমা| ১৬ বছরের নিচে |
| দায়িত্ব| এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর দায়ভার প্রদান করা হয়েছে |
| জরিমানা| এই নিয়ম না মানলে জরিমানার বিধান ২.৫ বিলিয়ন রুপি বা বিশ্বব্যাপী আয়ের ৫% |
| প্রযোজ্য প্ল্যাটফর্ম|যে সকল সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা যেমন Facebook, Instagram, TikTok, X, Snapchat |
🇦🇺 অস্ট্রেলিয়া – বিশ্বের প্রথম দেশ এই Social Media Minimum Age Act এর প্রবর্তক
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে Online Safety Amendment (Social Media Minimum Age) Act 2024 পাস করেছে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের নির্দিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে কোনো প্রকার কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেছে।অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে বিলটি ২৯ নভেম্বর ২০২৪ সালে পাস হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞার ফলাফল:
অস্ট্রেলিয়া তাদের এই
সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞাকে সফল মনে করছে।তাদের যোগাযোগ মন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলস জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন যে প্রথম সপ্তাহেই ৪৭ লক্ষ অ্যাকাউন্ট এর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলিকে একাধারে জরিমানা এবং নজরদারি রাখা হয়েছে সরকারি তরফে। এই বিষয়ে ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
📊 ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬ – ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে সতর্কতা
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কর্তৃক সংসদে পেশ করা বিলটিতে ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬ সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য বয়সের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে
সার্ভের মূল উদ্বেগ:
"সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি উদ্বেগ, হতাশা, আত্মসম্মান এবং সাইবারবুলিং স্ট্রেস কমানো সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত," সার্ভেতে বলা হয়েছে। "অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক স্ক্রলিং, সামাজিক তুলনা এবং গেমিং ডিসঅর্ডার। এগুলি ঘুমের ব্যাঘাত, আগ্রাসন, সামাজিক প্রত্যাহার এবং বিষণ্নতার দিকে পরিচালিত করে।"
এই নিয়ে সার্ভের সুপারিশ:
| সুপারিশ | বিবরণ |
| বয়স-ভিত্তিক অ্যাক্সেস সীমা | অপ্রাপ্ত বয়সে ব্যবহারকারীরা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষতিকারক কনটেন্টের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা লক্ষ্য করা হয়েছে |
| অভিভাবক কর্মশালা| স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারের সাহায্যে অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ |
| সহজ ডিভাইস| শিশুদের জন্য বেসিক ফোন এর ব্যাবহার বা শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ট্যাবলেট |
রাজ্য সরকারের উদ্যোগ
অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে নজির সৃষ্টি করেছে,এই রাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করা হবে , মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠন করেছে।
এছাড়াও রাজ্যগুলি গোয়া শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।
মহারাষ্ট্র , অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গোয়ার মন্ত্রীরা তাদের বিভাগগুলিকে অধ্যয়ন করতে এবং শিশুদের অতিরিক্ত অনলাইন ব্যবহার থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে বলেছেন।
🌍 বিশ্বব্যাপী প্রবণতা – সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কোন কোন দেশ নিষেধাজ্ঞা আনছে?
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, স্পেন, জার্মানি, ইতালি এবং গ্রিস সহ অন্যান্য দেশগুলিও ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার বিবেচনা করছে।
| দেশ | অবস্থা |
| 🇦🇺 অস্ট্রেলিয়া| ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর |
| 🇫🇷 ফ্রান্স| ১৫ বছরের কম বয়সিদের নিষেধাজ্ঞা আইন অনুমোদিত |
| 🇳🇴 নরওয়ে | ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব |
| 🇲🇾 মালয়েশিয়া| ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা
ভারতের ডিজিটাল ব্যাবস্থা সম্ভব
ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৫০ মিলিয়ন এবং এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ অনলাইনে যুক্ত থাকছে। বর্তমানে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেসের জন্য কোনো ন্যূনতম বয়স নির্ধারিত নেই।
ভারতীয়রা ২০২৪ সালে সম্মিলিতভাবে প্রায় **১ লক্ষ কোটি ঘণ্টা** স্মার্টফোনে ব্যয় করেছে, যা অভূতপূর্ব এক্সপোজারের ইঙ্গিত দেয়।
আইনি কাঠামো
ভারতের ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩ ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে শিশুদের ডেটার জন্য সুরক্ষা বিষয়টি যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য যাচাইযোগ্য অভিভাবকীয় সম্মতি প্রয়োজন। নাবালকদের লক্ষ্য করে ট্র্যাকিং এর ব্যাবস্থা এবং আচরণগত পর্যবেক্ষণ এবং টার্গেটেড বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক।
তবে, বর্তমান আইন বয়স-ভিত্তিক অ্যাক্সেস এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে না। ডিপিডিপি অ্যাক্ট আইটি অ্যাক্টের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। শিশুদের ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য অভিভাবকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক করে; সরাসরি অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও উদ্বেগ
সম্ভাব্য সুবিধা:
সাইবারবুলিং হ্রাস : এই বিষয়ে আইন কার্যকর হলে কমবে সাইবারবুলিং। ছোট শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস সীমিত করলে অনলাইন হয়রানির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাব
উন্নত মানসিক স্বাস্থ্য : একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ এবং তুলনার এক্সপোজার এর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করলে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি:
ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা শিশুদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেকটি দিকে সম্প্রসারণের ঘটনা হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ব্যাবস্থাপনা দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা নীতিনির্ধারকরা যে নিরাপত্তা বিশেষ করে গুরুত্ব দিচ্ছেন।তারা চাইছেন তা সম্ভাব্যভাবে দুর্বল করতে পারে।
দুটি বড় ঝুঁকি রয়েছে - প্রথমত, ১৬ বছরের কমরা কম অধ্যয়ন করা এবং কম নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে। দ্বিতীয়ত, তরুণদের তারা কী ঝুঁকি নেয় সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অস্বীকার করলে, তাদের স্থিতিস্থাপকতা বিকাশের সুযোগও অস্বীকার করা হয়।
এই আইন গুলি নিয়ে টেক কোম্পানিগুলির প্রতিক্রিয়া
Meta এটি অভিভাবকীয় তত্ত্বাবধানের জন্য আইনটি সমর্থন করে । তাদের তরফে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে "নিষেধাজ্ঞা বিবেচনাকারী সরকারগুলিকে সতর্ক থাকা উচিত যাতে কিশোরদের কম নিরাপদ, অনিয়ন্ত্রিত সাইটের দিকে প্রবণতা বৃদ্ধি না হয়।"
Meta জানিয়েছে যে মোবাইল অ্যাপ স্টোর অপারেটররা (Apple-এর App Store এবং Google-এর Play Store) ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করে, পৃথক প্ল্যাটফর্মের উপর দায় না পড়ে।
