বাংলাদেশে রেশন পাচার ইস্যু: ইডির জালে অভিনেত্রী নুসরত জাহান!
অভিনেত্রীদের যুক্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিনোদন জগতে সবথেকে আলোচিত নাম গুলি এখন দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তাদের বিরুদ্ধে হামেশাই দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়।এইরকম এক অভিনেত্রী হলো নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)।
টলিউড সুন্দরী অভিনেত্রী এবং বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহান আবারও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (Enforcement Directorate) নজরে।
তবে এবার কোনো ফ্ল্যাট প্রতারণা নয়, বরং অভিযোগ উঠেছে কয়েক কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি বা গম পাচার মামলার সাথে।অভিনেত্রী যোগসূত্র নিয়ে এবার ইডি তলব। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গম পাচার মামলার সূত্রপাত ও মূল অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে, যখন গোটা দেশ কোভিড লকডাউনের ফলে গৃহবন্দি ছিলো। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ রেশনের চাল ও গম বাংলাদেশে পাচারের।
যেহেতু সেই সময় নুসরত জাহান বসিরহাটের লোকসভা সাংসদ ছিলেন, তাই তাঁর সংসদীয় এলাকায় ঘটে যাওয়া এই বিশাল আর্থিক ও খাদ্য কেলেঙ্কারিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, রেশনের জন্য বরাদ্দ গম পৌঁছে যায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে। সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে সরাসরি সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে। এই পাচার চক্রের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নুসরতের কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, এই জন্য গোয়েন্দাদের অভিনেত্রী কে তলব ।
ইডির তলব ও নুসরতের অবস্থান
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইডি নুসরত জাহানকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে আগামী বুধবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে। তবে এই তলবের পর থেকেই অভিনেত্রী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যেতে চাইছেন কোলকাতার জিজ্ঞাসাবাদের পক্রিয়া। দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই নুসরত জাহান গম পাচার মামলা এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম হট টপিক।
অতীতের বিতর্ক ও রেশন দুর্নীতির যোগসূত্র
নুসরত জাহানের জন্য আইনি জটিলতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালেও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। তিনি 'সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার' নামক একটি সংস্থায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় প্রবীণ নাগরিকদের ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা শঙ্কর আঢ্যর মতো ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ইডি নুসরতকে এই নতুন মামলায় তলব করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা। বিরোধী দলগুলো দাবি করছে, নুসরত তার সাংসদ পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। নুসরত এই পাচার চক্রে সহায়তা করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছে শাসক দল।
নুসরত জাহান আদৌ ইডির তলবে সাড়া দেবেন কি না,এই মামলায় তার অবদান কতোটা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এই গম পাচার মামলা শুধু তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নয়, বরং তাঁর ব্যক্তি ইমেজকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সত্য ঠিক কী, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।
